শ্রীশ্রীঠাকুরের ছড়াবাণী সংকলন অনুশ্রুতি থেকে-

অস্খলিত ইষ্টনিষ্ঠার
      একতন্ত্র ধ’রে,
সেবায় আপ্রাণ হ’য়ে তুমি
      চল দীপক সুরে ;
দীক্ষা পাও আর না-ই পেয়ে থাক
      একায়িত মনে,
আচার্য্য ভজে চলতে থাক
      ভাব-উৎসারণে ;
যখন বোঝেন দেবেন দীক্ষা
      তা’তেই খুশী হ’য়ো,
একনিষ্ঠায় তাঁ’রই সেবায়
      নিয়োজিত র’য়ো ;
দেখবে কেমন সব যা’-কিছু
      ধৃতি-বিনায়নে,
উথলে ওঠে ভক্তি-হাওয়ায়
      জীবন-উৎসারণে।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৫, ভজন-চৰ্য্যা-৫৩


সত্ব-বাদই বাদের সেরা
     শঙ্খধ্বনিত্* কর্ নিনাদ,
সত্তাটুকু বাদ দিলে আর
     নাইকো বিশ্বে কোন বাদ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-২, ধর্ম্ম-৭৭


নিষ্ঠানিপুণ অনুরাগে
      দৃষ্টি নিয়ে চলতে গেলে
কোথায়ও হয় ভরপুর আর
      কোথাও ঊষদৃকে চলে,
অনুরাগকৃতির পারিজাত কোথাও
      কোথাও ঊষর স্তব্ধতা—
এমনি ক’রে ভেঙ্গে-গ’ড়ে
      রাখে সত্তার শিষ্টতা ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৬, সাধনা-১১০


মান যদি তুই না দিস্ কা’রো
      সুষ্ঠু হবি কিসে?
অপমানের দুন্দুভিতে
      হারা হবি দিশে।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৭, বিধি-৫৩


মানুষকে যদি মানুষে রাখিয়া
      উন্নতস্রোতা করিতে চাও,
বিধিবিনায়িত শিষ্ট চলনে
      সুষ্ঠু-আবেগী জীবনে ধাও;
দীপ্ত রাগেতে অন্তরের সুর
      সাত্বত পথে চালিত কর,
বিধিবিনায়িত শিষ্ট যোজনে
      আগ্রহদীপনায় তাহারে ধর;
সেদিকে তোমরা প্রীতির নয়নে
      চাহিয়া চলিয়া চলিতে থাক,
অকৃতি যা’-সব দূর ক’রে দিয়ে
      সুকৃতিসকল যতনে রাখ;
সাত্বত সুর যেখানে দেখিবে
      তাহার চলনে চলন দিয়ে,
ধন্য হ’য়ে ওঠ প্ৰতিপ্রত্যেকে
      সুঠাম সুষ্ঠু জাতিটি নিয়ে ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৬, রাজনীতি-১৭


অন্তঃকরণ তা’কেই বলে
     ভাববিভূতির বিধানে যা’
বলে ক’রে চলে তোমার
     ভাবে আনে উচ্ছলতা।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৩, সংজ্ঞা-২৭


চলা-বলা যা’-কিছু তোর
     ইষ্টস্বার্থ-সমর্থনে,
অস্তিত্বকে বিনিয়ে চলবি
     ওই পথেতে নিয়ন্ত্রণে;
শাস্ত্রনীতি ন্যায়পরতা
     চলায়-বলায় পড়বে ধরা,
দুনিয়াটা হাসির ভরে
     উঠবে হ’য়ে উজল-করা ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-১, বৃত্তি-নিয়ন্ত্রণ-২৪


জীবন-ধৃতি যা’তে বাড়ায়
      প্রতি বিশেষে পরস্পরে,
হাতে-কলমে—যেথায় এটা
      সাম্য সেথায় ক্রমেই বাড়ে ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৪, জীবনবাদ-১২১


আগন্তুক কেউ এলে পরে
      আচার-ব্যবহার-উচ্ছলায়,
তুষ্ট ক’রো এমনতর
      তা’রা যেন তৃপ্তি পায়।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৫, পরিবেশ-১৯


যে-মনীষী জন্মেন যখন
     সময় কালের গর্ত্ত ফুঁড়ে,
সার্থকতার বিরোধবার্তা
     অর্থ দিয়ে হটান দূরে ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-১, আদর্শ-৭১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *