শ্রীশ্রীঠাকুরের ছড়াবাণী সংকলন অনুশ্রুতি থেকে-

স্বতঃ সাবলীল শব্দস্তর যা’
     জীবনীয় দ্যুতি নিয়ে,
স্বর্গ কিন্তু সেটাই আসল
     সাত্ত্বিকতার ভাতি বিনিয়ে;
মর্ত্ত্যেও তেমনি স্বর্গ আসে
     যা’ মরত্ব-অপসারী,
স্বৈর্য্যভরা জীবনীয়—
     সত্তায় করে সুপ্রসারী।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৩, সংজ্ঞা-৩৬


অসৎ যা’ সব ছেড়ে দিয়ে
      চল লোকের মঙ্গলে,
নিষ্ঠাকৃতির অনুরাগে
      থাক ওরই দঙ্গলে,
বোধের দীপ্তি জ্বলবে ক্রমে
      স্বস্তিও নেমে আসবে,
তুমি হবে একটি মানুষ
      যেমন করতে পারবে ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৬, ব্যবহার-৩৭

নিবেশ-নিটোল অস্খলনে
      ইষ্টে ওরে! লেগেই থাক্,
তাঁ’রই সেবায় সব জীবনটা
      নিটোল অর্ঘ্য ক’রে রাখ্ ;
জীবনটা তোর ঐ আলোতে
      দীপী-সজ্জায় সাজিয়ে তোল্,
নেভে না যেন ঐ আলোটি
      ধ’রে রাখিস্ রাগের রোল ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৫, জীবনবাদ-৭৭

ঝমক নাচে তাল-বেতালে
     লক্‌লকান ফণ-ধাওয়ায়,
সিংহরোলে কাঁপিয়ে তুলে
     মরণতরণ বীরগাথায়,
আর্য্যসমাজ, ওঠ রে জেগে
     বীর্য্যপ্রাণা দ্বিজের ঘর,
অযুত আলোয় বুক ভরে নে
     দীপ্ত কর্ রে বিশ্বচর ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-১, সমাজ-১৩

দিতে যে পারে না
     পাওয়া তা’র ঘটে না ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-১, ব্যবহার-২

ঊর্জ্জী যজন, ঊর্জ্জী যাজন,
     ঊর্জ্জী-মধুর নিষ্ঠা সেবা,
এমনগুণীর সঞ্চারণায়
     বাড়েই বুকে ঊর্জ্জী বিভা।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-২, যাজন-১৮

নিষ্ঠা যদি থাকেই তোমার
     আগ্রহ-উছল হয় হৃদয়,
তদ্‌-অনুগ কৃতিতপে
     রোগবালাই সব করবে জয়।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৩, স্বাস্থ্য ও সদাচার-৫০

প্রীতির প্রেয় যেমনতর
     ফলও ধরে তেমনতর।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৩, অনুরাগ-৫

অলসবুদ্ধি নিয়ে চলাই
      জমিয়ে রাখা আপদস্তূপ,
নির্ব্বাহ কর তড়িৎ-ঘড়িৎ—
      পারগতার এইতো রূপ।
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-৫, কৰ্ম্ম-১৮

হলায়ুধের হল হেঁকে নে
     ওরে আর্য্যকৃষ্টি-ঘোষী,
বিপ্র তোরা স্ফীত বক্ষে
     ধ’রে দাঁড়া কোষা-কোষী;
বীর্য্যবক্ষী ক্ষত্র আবার
     ধর্ রে দণ্ড, ধর্ রে অসি,
বৈশ্য দাঁড়া পাচন হাতে
     গোধন-ধান্যে দৈন্য ধ্বসি’;
আর্য্য তোরা রুদ্র বেগে
     আবার দাঁড়া দৃপ্ত রিঝে
রিক্তি মরণ মুক্তি-তপে
     বীৰ্য-দাপে শূদ্র-দ্বিজে !
          -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
          অনুশ্রুতি-১, বর্ণাশ্রম-৪৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *