সমাচার প্রতিবেদন :
‘ইষ্ট-জীবন অনুকূলচেতনায়’ এবং ‘ঐ তিনি যখন যেখানে আবির্ভূত হন সেই স্থানই মানুষের পরমতীর্থ’ এই দুইটি প্রতিপাদ্য নিয়ে পুন্য তালনবমী তিথিতে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮ আবির্ভাব তিথি ও ভাগীরথী পদ্মায় পুণ্য স্নান মহোৎসব শুরু হতে চলেছে। পাবনার হিমাইতপুরে আশ্রম প্রাঙ্গনে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হয়ে দুই দিন ব্যাপী চলবে এই উৎসব। ইতোমধ্যেই মহোৎসবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে উৎসব পালনের জন্য সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং আশ্রম কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
আগামীকাল রবিবার মহোৎসব উদ্বোধন করবেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার ট্রাস্টি এ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন পাবনা ইসলামীয়া মাদ্রাসা, দারুল আমান ট্রাস্টের অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাফকাত ওয়াহিদ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ধর্মীয় আলোচকবৃন্দ আলোচ্য বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখবেন। এদিন দুপুরে যুবসম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু এবং রাশেদুল রহমান রানা বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন সোমবার সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. বাহেজ উদ্দীন, পাবনা প্রেসকাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ধর্মীয় আলোচকবৃন্দ আলোচ্য বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখবেন। এদিন দুপুরে মাতৃসম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন পাবনা ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানী হোসেন। দুই দিনের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী প্রাণশঙ্কর দাস (স.প্র.ঋ.) এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী তাপস চন্দ্র বর্মন (স.প্র.ঋ.)।
আয়োজকরা জানান, দুই দিন ব্যাপী মহোৎসবের অনুষ্ঠানমালায় থাকছে ধর্মসভার পাশাপাশি ঊষালগ্নে মাঙ্গলিকী, তারকব্রহ্ম নাম সঙ্কীর্তন, সকাল-সন্ধ্যা বিরতিহীন নাম-ধ্যান, প্রভাতে এবং সন্ধ্যায় সমবেত প্রার্থনা, সদ্গ্রন্থাদি পাঠ, ভক্তি সংগীত, শুভ অধিবাস, বিশ্বকল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা, পুরুষোত্তমের শুভ সপ্তত্রিংশতী-উত্তর শততম জন্মলগ্নের স্মৃতিচারণ, (পুরুষোত্তমের দিব্য তনু স্মরণে ৮১ বার পুষ্পাঞ্জলি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শঙ্খধ্বনি, পুরুষোত্তম প্রণাম ও অর্ঘ্যাঞ্জলি নিবেদন, জাতীয় সঙ্গীত সহযোগে জাতীয় পতাকা ও মাতৃবন্দনা সহযোগে সৎসঙ্গ পতাকা উত্তোলন), শ্রীঅনুকূলনবমী তিথি (তালনবমী) যোগে পুন্যতোয়া ভাগীরথী পদ্মার তীর্থ-সলিলে স্নান-মহোৎসব, শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মস্থান প্রদক্ষিণ, ঋত্বিক পরিষদ সভা, যুব সম্মেলন, ঋত্বিক সম্মেলন, কিশোরমেলা, মাতৃসম্মেলন, কর্মীসম্মেলন, আন্দোবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরণ ও রাতে লোকরঞ্জন অনুষ্ঠান।
দুই দিনের এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ধর্মসভা। যার আলোচ্য বিষয় থাকবে- ‘ইষ্ট-জীবন অনুকূলচেতনায়’, ‘ঐ তিনি যখন যেখানে আবির্ভূত হন সেই স্থানই মানুষের পরমতীর্থ’।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র বর্মন জানান, তালনবমী উৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। কাল থেকে দুই দিন ব্যাপী চলবে এই মহোৎসব। আবহাওয়া ভালো থাকলে সারা দেশ থেকে ভক্তবৃন্দ সমবেত হবেন। ঠাকুরের কৃপায় সুন্দন ও সুষ্ঠুভাবে উৎসব পালিত হবে বলে আশা করছি।
